দুর্নীতির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি : ফখরুল :: রাজনীতিবিদদের কথার ধরন বদলাতে হবে :: খাদ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিৎ: মির্জা ফখরুল :: পদ্মা ব্রিজ দিয়ে কী হবে ? :: আমার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে : ট্রাম্প :: ‘বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়া’ :: চাঁদা দে, নইলে জীবন ::
আজ সোমবার , ২১ আগস্ট ২০১৭ ইং  , ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঃ , ৫ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিঃ

~: শ্রেষ্ঠ উপহার :~

প্ররাম্ভিকতাঃ

বাংলা রোজা শব্দটি এসেছে ফারসি শব্দ থেকে। যার আরবি শব্দ হচ্ছে সওম এবং সওম এর বহুবচন হচ্ছে সিয়াম, যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় বিরত থাকা। ব্যপক অর্থে সওম হলো আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে নিয়ত সহ সুবহে সাদিকের প্রারম্ভ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা। আরও বিস্তারিত যদি বলি, সকল প্রকার কুপ্রবৃত্তি হতে দেহ ও মনকে বিরত থাকার নামই হচ্ছে রোজা

 

রহমতের, মাগফিরাত এবং মুক্তির তরে মাহে রমজানঃ

আল্লাহ্‌পাক রাব্বুল আলামীন তার  নৈকট্য লাভের জন্য এই পবিত্র মাসের রোজাকে  তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশ দিন দোযখ থেকে মুক্তির জন্য।

রহমানুর রাহিমের নির্দেশে আসমান হতে বারিধারা বর্ষণ হয়ে জমিন যেমন সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা হয়ে মৃত্তিকাকে নব শক্তিতে বলীয়ান করে তেমনি মাহে  রমজানের রোজা মুমিন বান্দাদের আত্মাকে নব শক্তিতে বলীয়ান করে। পবিত্র মাহে রমজানের রোজা আমাদের শিক্ষা দেয়, তাক্বওয়া, সহিঞ্চুতা ও সংযম।

 

আল্লাহ্‌পাক রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেনঃ

*** ‘হে ইমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী হও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)।

 

*** ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে পায়, সে যেন রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)।

 

গুনাহ মাফের গ্যারান্টি মাহে রমজানঃ

পবিত্র এ মাহে রমজানে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে বন্দি করা হয়। বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে। তার মধ্যে একটি দরজার নাম রাইয়ান। সম্মানিত রোজাদার ব্যতীত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,  যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে, তার আগের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রাতে ইবাদত করে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। সুতরাং আমরা বলতে পারি গুনাহ মাফের গ্যারান্টি মাহে রমজান।

কবির ভাষায় রমজানের গুনগান।

জান্নাতের দ্বার খোলে এলোরে রমজান,
তাইতো সবার মনে বইছে খুশির বান ।
রহমতের বার্তা নিয়ে এলোরে রমজান,
নিরসনের বার্তা নিয়ে এলোরে রমজান,
পরিত্রানের বার্তা নিয়ে এলোরে রমজান,
তাইতো সবার মনে বইছে খুশির বান ।
শুরু হলো রোজা, রহমতের দ্বার খোলা,
নিয়ে নাও অব্যাহতি ওরে আত্মভোলা।
ওগো মোমিন মুসলমান করোনা দেরী,
বরকতময় খাবার, খেয়ে নাও সেহেরী,
সেহেরী খাও রোজা রাখ, পাবে পরিত্রাণ,
রহমতের বার্তা নিয়ে এলোরে রমজান।
দণ্ডায়মান হবে যেদিন কঠিন ঐ হাসরে,
হিসাব নিবেন জারে জারে কঠিন কাহহারে।
সেদিন কেউ উঠবে খালি হাতে, কেউবা উলঙ্গ,
রোজাই তখন বস্ত্র হয়ে ঢাকবে তাদের অঙ্গ।
হে সত্যান্বেষী, এসো সত্য পথের পানে।
অনুকম্পা লুটে নাও, ভাস মুক্তির বানে।
হে বিপথগামী সময়কে করোনা অনবধান,
জান্নাতের দ্বার খোলে এলোরে রমজান।


________মোহাম্মাদ সহিদুল ইসলাম

 

 

রমজানের শ্রেষ্ঠ উপহারঃ

সর্ব কালের, সর্ব যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল কোরআন এ মাসে আমরা পেয়েছি। রমজান মাস অন্যান্য মাসের মতোই একটি মাস তারপরও এ মাসটির আলাদা গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে, কারণ মহাগ্রন্থ আল কুরআন এ মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে। আল কুরআন হল বিশ্ব মানবতার জন্য  মহাসংবিধান। মানুষের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সকল সমস্যার সমাধান আল কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।

 

তাইতো কোরআনে বলা হয়েছেঃ 

*** “ রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে।”  (সূরা আল বাকরা –আয়াত  ১৮৫)

 

***  “ নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রাতে, আর মহিমান্বিত রাত সম্বন্ধে আপনি কিছু জানেন কি? মহিমান্বিত রাত হচ্ছে হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” (সূরা আল কদর : ১-৩)

 

সুতরাং এই শ্রেষ্ঠ উপহার মহাসংবিধান আল কুরআন নাজিলের কারণে একটি মাসের মর্যাদা হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম।

 

উপসংহার :

মানব জাতি আজ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নিয়ামত, শ্রেষ্ঠ উপহার মহাসংবিধান আল কুরআন থেকে বিচ্যুত হয়ে ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত। কামনাহীনতায় গা ভাসিয়ে দিয়ে তারা আজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে । কলুষতায় ভরে দিয়েছে এ ধরণীকে । মহামহীম আল্লাহ অতিশয়  ক্ষমাশীল। তিনি অনুতাপী  হওয়ার বহু সুযোগ দান করেছেন। সুতরাং আমরা গভীর অনুশোচনায় তাড়িত হয়ে রমজানের শ্রেষ্ঠ উপহার মহাসংবিধান আল কুরআন কে বুকে ধরে রাখি, তাহলে আমাদের মুক্তি অবশ্যম্ভাবী ।

 

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

 

বিভাগঃ রোজা । এই পোষ্টটি ৮৭৯ বার পড়া হয়েছে
কোন মন্তব্য নেই

আপনার মন্তব্য লিখুন

এই পোষ্টে মন্তব্য করতে অবশ্যই » লগইন করতে হবে ।
  • নামাজের সময়সূচী

    শনিবার , ১৭ ‍জুন ২০১৭
    ওয়াক্ত শুরু জামাত
    ফজর ০৩.৪৬ ০৪.০০
    জোহর ১২.০৩ ০১.১৫
    আসর ০৪.৩৯ ০৫.১৫
    মাগরিব ০৬.৫১ ০৭.০০
    এশা ০৮.১৮ ০৮.৩০
    সেহরীর শেষ সময় - ০৩.৩৮
    ইফতার শুরু - ০৬.৫১
    সূর্যোদয় : ০৫.১১ মিঃ
    সূর্যাস্ত : ০৬.৫০ মিঃ
  • বিভাগসমুহ

  • অন্যান্য পাতাসমুহ

  • ভিজিটর কাউন্টার


    free hit counter
  • ভিজিটর তথ্য

    আপনার আইপি
    54.81.139.235
    আপনার অপারেটিং সিস্টেম
    Unknown
    আপনার ব্রাউজার
    " অপরিচিত "
  • বিজ্ঞাপন


    Propellerads