পবিত্র মক্কার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ :: অটো চালাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি ! :: ১৫০ সন্তানের বাবা ভারতীয় রেলকর্মী :: যিশুখ্রিস্টের ‘কবর’ উন্মুক্ত করল বিজ্ঞানীরা :: শিশুর ঠোঁটে চুমু দিলে ভয়ানক বিপদ :: বিড়ালের মাংসের বিরিয়ানি খাচ্ছেন না তো? :: 'প্রেমিকদের' দেয়া ২০ আইফোন বিক্রি করে বাড়ি ক্রয়! ::
আজ শনিবার , ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ ইং  , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঃ , ২৭ সফর ১৪৩৮ হিঃ
প্রধান প্রতিবেদন
আবারও পয়েন্ট খোয়ালেন বেগম জিয়া

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল শেষ হয়েছে, কিন্তু নানামুখী আলাপ-আলোচনার রেশ এখনো কাটেনি। জৌলুসপূর্ণ কাউন্সিলটি উদ্যোক্তাদের আকাঙ্ক্ষা ষোলআনাই পূর্ণ করেছে বলতে হবে। আমাদের দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের জাতীয় কাউন্সিল বা সম্মেলনে দেশব্যাপী এমন জাঁকজমক, প্রায় সপ্তাহকালব্যাপী ‘আলোর খেলা-আলোর মেলা’ কখনো ইতিপূর্বে দেখা যায়নি; এমনকি আওয়ামী লীগের বেলায়ও না। দুই দিনব্যাপী কাউন্সিলে এবার কিছু ব্যতিক্রম ছিল চোখে পড়ার মতো। আগের কয়েকটি কাউন্সিল হয়েছে বলা চলে নামমাত্র। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব কর্মযজ্ঞ শেষ। ‘মফস্বল’ এলাকা থেকে বাছাই করা মুখচেনা দু-চারজন নেত্রী বন্দনা করে বক্তব্য রাখতেন, কেন্দ্র থেকেও দু-তিনজন ‘আস্থাভাজন’ দলের ও নেত্রীর সাফল্যের ‘কীর্তন’ গাইতেন। এরপর সভানেত্রী নির্বাচিত হতেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং তিনি বাদবাকি পদ-পদবি ‘বিলিবণ্টনের’ জন্য ‘কাউন্সিল কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত’ হতেন। ব্যস, কাউন্সিলের কাজ শেষ! এবার তেমন ঘটেনি। ব্যতিক্রমটা এখানেই। দলে সভাপতিমণ্ডলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যপদ বেড়েছে। সভানেত্রী এককভাবে কিছু করেননি। কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত সংশ্লিষ্ট উপ-কমিটিতে নির্দিষ্ট প্রস্তাবাবলি জমা দেওয়ার পর আলাপ-আলোচনার পর প্রস্তাব বিবেচনার জন্য পেশ করা হয়েছে নির্বাহী কমিটিতে এবং নির্বাহী কমিটিতে পাস হওয়া প্রস্তাব কাউন্সিলে অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এবার আর ‘কাউন্সিল কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত’ হয়ে অন্যান্য পদাবলি দলীয় সভানেত্রী ‘বিলিবণ্টন’ করেননি। সাধারণ সম্পাদক সভাপতিমণ্ডলী, মনোনয়ন বোর্ড যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত হয়েছে। এটি একটি প্রকৃত সাংগঠনিক-গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার অনুসরণ ভিন্নমত থাকলেও একটি দলে গণতন্ত্রের চর্চা ও অনুশীলনের জন্য জরুরি। অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক দলের এই প্রচলিত রীতি অনুসরণ করলে আস্তে আস্তে কর্তৃত্ববাধি মানসিকতার অবসান হতে পারে। মাঠের নেতা-কর্মীরা নেতৃত্ব নির্বাচনে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে পারে এবং তাদের ইচ্ছা ও পছন্দের বাইরের চাকর-বাকর বা কর্মচারী দিয়ে দল চালানোর প্রবণতা রুখে দিতে পারে। রাজনৈতিক দল তো করপোরেট হাউস নয়। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারও ঘোষণা করেছে এবং কাউন্সিল তা অনুমোদন করেছে। গত কাউন্সিলে ভিশন-২০২১ ঘোষণা করা হয়েছিল, এবার ঘোষণা করা হলো ভিশন-২০৪১। ভিশন-২০৪১ এর কথা বলা হচ্ছে ‘গত বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকেই। কাউন্সিল এবার তাতে অনুমোদন দিল। সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিলে একটি রাজনৈতিক দলের কাউন্সিল পরিপূর্ণতা লাভ করে আওয়ামী লীগ এবার তার জাতীয় কাউন্সিলে সবকিছু অনুসরণ করেছে। দলের যারা ‘লাইফব্লাড’ সেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এসেছিলেন কাউন্সিলর ডেলিগেট হয়ে। তাদের ওপর অপছন্দের হলেও না জানিয়ে ওপর থেকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি এবার। তবে সব কিছু চাপিয়ে দেওয়া না হলেও সবই যে সব কাউন্সিলর ডেলিগেটের মনমতো হয়েছে তা বলা যাবে না। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বেশি গ্রহণযোগ্যতা ছিল বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। কাউন্সিলের উদ্বোধনী দিনে তিনি যে আবেগময়ী ভাষণ দিয়েছেন, তাতে মনে হয়েছে তার পদে পরিবর্তন হোক তা তিনি চাননি। ওবায়দুল কাদেরও আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা। একটি দলে ত্যাগী, সংগ্রামী ও পরীক্ষিত অনেক নেতা-কর্মী থাকেন। কিন্তু সবাই গুরুত্বপূর্ণ পদ পান না। সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা কর্মকাণ্ড, গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে আগে থেকেই মনস্থির করে কাউন্সিল বা সম্মেলনে আসে কাকে তারা কোন পদে চান। মনে হয়েছে, এবার অনেকের ‘মাইন্ডসেট’ পরিবর্তনের একটি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া কাজ করেছে। দলের সভানেত্রী আগেই তার চয়েস জানিয়ে দিয়েছেন এবং মিডিয়ায়ও তা কাউন্সিলের আগেই এসে গেছে। নতুন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও আগেই মিডিয়ার মাধ্যমে কাউন্সিলরদের কাছে এই বার্তা পাঠিয়ে দেন যে, ‘নেত্রী আমাকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। চাঁদ উঠলে সবাই দেখবে।’ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ওই দিনই কপাল পুড়েছে। তবে এটা ঠিক যে, দলের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সচেতন জনগণের মধ্যে সৈয়দ আশরাফের একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল— আওয়ামী লীগের মতো দলে যা খুব প্রয়োজন। ওবায়দুল কাদেরের নাম সৈয়দ আশরাফকে দিয়ে প্রস্তাব করানোয় বাইরে একটা ধারণা জমেছে, অন্যথায় কাউন্সিলে ভিন্ন দৃশ্য বোধহয় আশঙ্কা করা হয়েছিল। ওবায়দুল কাদের ডায়নামিক সন্দেহ নেই। তাকে প্রমাণ করতে হবে তিনিও পারেন।

আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিলকে ঘিরে দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের বাইরে অন্য দল ও সচেতন জনগণের মধ্যেও একটা আশাবাদ ছিল। মনে রাখা ভালো, আমাদের দেশের মতো দুর্নীতিপ্রবণ একটি দেশে একটানা পৌনে ৮ বছর ক্ষমতা ভোগকারী একটি দলের জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আলোর ঝলকানি আর সাজসাজ রব বিচিত্র কিছু নয়। এর আলাদা একটা ‘শানেনজুলও’ আছে। এসব কারা করে, কেন করে তা না বোঝার মতো নাবালগ নয় এদেশের মানুষ। চাঁদাবাজি-তোলাবাজি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্র থেকে। বলা হয়েছিল, সব খরচ দল জোগাবে। বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল দেড় কোটি টাকা (তথ্য যদি ভুল না হয়)। খাবারের যে মেন্যু জানা গেছে তাতে ৫০ হাজার লোকের খাবারের পেছনেই তো তা খরচ হয়ে যাওয়ার কথা। বিশাল প্যান্ডেল, প্রচার, কাউন্সিলর-ডেলিগেটদের থাকার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য খরচ জোগাল কে বা কারা? নেতারা কি খবর রেখেছেন, জেলায় জেলায় শহরে-নগরে-বন্দরে থানায় থানায় এমনকি অনেক গ্রাম পর্যায়েও কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কী পরিমাণ উৎসব-আনন্দের, সাজসজ্জার, আলোকমালার আয়োজন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে যে দেশে অনেক কলকারখানা বন্ধ থাকে, কৃষক জমিতে সেচ দিতে পারে না, লোডশেডিং করতে হয় সে দেশে ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিল উপলক্ষে এমন বিদ্যুতের অপচয় নিয়ে বিরূপ সমালোচনা হতেই পারে। যে বাজেট বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে, বাইরের চাকচিক্যময় আয়োজনে খরচ হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ। কারও কারও মতে শতগুণ। এই টাকা কোত্থেকে এসেছে? চাঁদাবাজি-তোলাবাজি তো নাকি বন্ধ। রাজনৈতিক দলে এখন এমন লোক কি আছেন, যিনি নিজের লাভালাভের চিন্তা বাদ দিয়ে এভাবে ‘বিনিয়োগ’ করবেন? ঢাকা মহানগরীর প্রায় সব এলাকাতেই বিভিন্ন কমিটি বা ব্যক্তির নামে চোখ ঝলসানো প্রচার দেখা গেছে। জিন-ভূত তো এসব খরচ জোগায়নি। এর একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের এতে সমালোচনা হয়েছে। জাতীয় কাউন্সিলে রাজনৈতিক-সাংগঠনিক বিষয়াবলির ওপর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সর্বমহলে প্রশংসা অর্জন করলেও জাতীয় উৎসবেও যা করা হয় না, তার চেয়েও বেশি কিছু করে দলটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন।

আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিল থেকে তাদের দলের বাইরের সাধারণ ও সচেতন মানুষের আশাবাদ বা প্রত্যাশার কথা বলেছি। সেই প্রত্যাশা যদি আওয়ামী লীগ পূরণ করতে পারে তাহলে সমালোচনার দিকগুলো তাদের জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ নাও হতে পারে। জনগণের সেই প্রত্যাশা বা প্রত্যাশাবলি কী? প্রত্যাশা হচ্ছে, শুধু দলের ভিতর সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার গণতন্ত্র চর্চাই নয়, দলের বাইরেও এর চর্চা ও অনুশীলন করতে হবে। নিজেদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ‘ষোলআনার ওপর বত্রিশ আনা’ ভোগ করবেন, অন্যদের অধিকার ন্যূনতম পর্যায়েও ভোগ করতে দেবেন না তা হয় না। মানুষ চায়, সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে, সভা-সমাবেশ, মিছিল-বিক্ষোভ করার অধিকার পাবে, জেল-জুলুম, মামলা-মোকদ্দমায় প্রতিপক্ষকে জর্জরিত করা হবে না, গুম-হত্যার আতঙ্ক দূর হবে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ-র‌্যাবসহ জাতীয় কোনো বাহিনীকে লাঠিয়ালের মতো ব্যবহার করা হবে না। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইতে একটি গণতন্ত্র, সেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’ কাউন্সিলে আগামী জাতীয় সংসদ (একাদশ সংসদ) নির্বাচনের বিষয় খুবই গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। সাধারণ মানুষও নির্বাচন নিয়ে ভাবে। আগাম হোক বা নির্ধারিত সময়ে হোক সে নির্বাচনটি যেন ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনের মতো দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ আর একটি নির্বাচন না হয়। বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার স্বার্থে আওয়ামী লীগকে আগামী টার্মই শুধু নয় আরও কয়েক টার্ম ক্ষমতায় থাকতে হবে। এমন চাওয়া, অর্থাৎ ‘ক্ষমতায় থাকতেই হবে’— একটি ভয়ঙ্কর চাওয়া। জনগণ না চাইলে কী হবে? তবে কি গণরায় অগ্রাহ্য করা হবে? প্রত্যাশা হচ্ছে, জনগণ চাইলে আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় আসুক কারও তাতে আপত্তি থাকার কথা নয়। সে জন্য দেশে সব দলের অংশগ্রহণমূলক একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা দরকার। যেহেতু এখন আওয়ামী লীগই ক্ষমতায়। এ ব্যাপারে প্রধান দায়িত্ব তাদের। তারা সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুক তা প্রত্যাশা করে সবাই। কাউকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে, কোনো প্রবল প্রতিপক্ষকে নির্বাচনের বাইরে রাখার মতলব সরকারের থাকবে না এই আশাবাদ যেন মাটি হয়ে না যায়। যত কথার ফুলঝুরিই ফোটানো হোক, দেশে নির্মল গণতান্ত্রিক শাসন তথা সুশাসন আছে তেমন দাবি করা যাবে না। কার্যত আওয়ামী লীগ একাই দেশ চালাচ্ছে। সংসদ আছে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিরোধী দলহীন। এরশাদের জাতীয় পার্টিকে বলা হচ্ছে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল।’ একটি মর্যাদাশীল সংসদ গঠন আওয়ামী লীগের মর্যাদাও বাড়াবে। জাতীয় কাউন্সিল শেষ হয়েছে। আওয়ামী লীগের এখন এটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে সারা দেশে দলের কাউন্সিলকে ঘিরে এত ‘রঙের খেলা, রঙের মেলা’ কোনো কাজেই লাগবে না।

এই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দুটি বিষয় সচেতন মহলে বেশ আলোচিত।

১. মওলানা ভাসানীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করা। ২। বেগম খালেদা জিয়ার কাউন্সিলে যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছর তিনি দলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি ছিলেন। তার প্রতি উপেক্ষা আওয়ামী লীগের হীনম্মন্যতা। চোখ ধাঁধানো প্রচার-প্রচারণায় মওলানা ভাসানীর নাম যদি উপযুক্তভাবে উচ্চারিত হতো তাতে আখেরে লাভ হতো আওয়ামী লীগেরই। বঙ্গবন্ধু তাতে ছোট হতেন না। বঙ্গবন্ধুকে বড় করার জন্য অন্য কাউকে ছোট করার তো প্রয়োজন নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কাউন্সিলে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সবাই আশা করেছিলেন যে, তারা তাতে যোগ দেবেন। আমন্ত্রণপত্র গ্রহণকালে মির্জা ফখরুল যদিও বলেছিলেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবুও ধারণা করা গিয়েছিল যে, সিদ্ধান্তটা অনুকূলই হবে। এর আগে আওয়ামী লীগের ২০তম এ জাতীয় কাউন্সিলের সাফল্য কামনা করে মির্জা ফখরুল যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, এ কাউন্সিলের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র চর্চার পথ আরও উন্মুক্ত হবে এবং রাজনৈতিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে সবাই সমান সুযোগ ভোগ করবে। এটা সত্য কথা যে, দেশে গণতন্ত্রের ‘স্বাস্থ্য’ ভালো নয়। দেশে গণতন্ত্রের সংকট কাটানোর দায়িত্ব সব স্টেকহোল্ডারের অর্থাৎ সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের। বড় দলগুলো তো বটেই। একটা দেশে গণতন্ত্রের সংকট সমাধানের সব দায়িত্ব সরকারের নয়। আমাদের মতো দেশে ক্ষমতার কাঙালরা কখনই ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। বরং নানা ফন্দি-ফিকির আঁটে ক্ষমতায় থাকার জন্য। এ জন্য অপরের গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক অধিকারও পদদলিত হয়। গণতন্ত্রের জন্য, কখনো বা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলসমূহের লড়াইয়ের অনেক ঐতিহ্য আছে। বিএনপি বলছে তাদের সব গণতান্ত্রিক অধিকার পদদলিত করা হচ্ছে, প্রকাশ্যে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। একেবারে এটা মিথ্যা নয়। সংবিধানসম্মত গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মাধ্যমে সে অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা যায়। আবার পক্ষ-প্রতিপক্ষ সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থেই একটা সমঝোতায় আসতে পারে। আমাদের দেশের খারাপ অভিজ্ঞতাটা হচ্ছে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোনো সুসম্পর্ক নেই। দেশের প্রধান দুই নেত্রীর মধ্যে ‘টকিংটার্ম’ পর্যন্ত নেই। এই বৈরিতা তৃণমূল পর্যন্ত স্পর্শ করেছে। পারস্পরিক হিংসা-হানাহানি উসকে দিচ্ছে। গণ-প্রত্যাশা হচ্ছে, রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্য নিয়েও দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল পারস্পরিক উন্নত সম্পর্ক বজায় রাখবে। একে অপরের সঙ্গে কথাবার্তা বলবে। তাতে খারাপ সম্পর্ক ও বৈরী মনোভাবের অবসান ঘটবে। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যোগদানের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্য জনমনে আশা জাগিয়েছিল যে, সুযোগটি তারা কাজে লাগাবেন। কিন্তু আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি সম্পর্কোন্নয়নের পথই রুদ্ধ করে দিল। জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত কবুল করতে দলের কেউ আপত্তি করে না, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অতিথি হতে কেন আপত্তি উত্থাপিত হয়? জনগণের কাছে, বাইরের যেসব অতিথি এতে যোগদান করেছেন, তাদের কাছে বিএনপি কী বার্তা দিল? যদি বলা হয়, দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান বিএনপি চায় না, তার জবাব কী? মানুষ এখন দশম সংসদ নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেলিফোনে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুর পর তাকে সমবেদনা জানাতে গেলে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভিতরে ঢুকতে না দিয়ে গেট থেকে ফেরত দেওয়ার নিন্দিত ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে অতিথি হওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানকে একই মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখতে চাইবে। নেতৃত্বের যোগ্যতা ও সংগঠনের শক্তি থাকলে জেলজুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন, মামলা-হামলার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ যে পথ অতীতে অনুসরণ করেছে, বিএনপিও তা করতে পারে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সমঝোতার কোনো সুযোগ কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলই হাতছাড়া করে না, করার কথা নয়। বেগম খালেদা জিয়ার উচিত ছিল আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে গিয়ে দুই দলের বিশেষ করে দুই নেত্রীর বৈরী সম্পর্ক অবসানের পরিবেশ তৈরি করা। তাতে সারা দেশে দুই দলের তৃণমূল স্তর পর্যন্ত নেতা-কর্মী সংগঠকদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ার আবহ তৈরি হতো। দেশে গণতন্ত্র চর্চা ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে তা হতো অনেক প্রেরণাদায়ক। শেখ হাসিনার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে বেগম জিয়া রাজনৈতিক পয়েন্ট দিয়ে দিলেন তাকে। অথচ বিএনপি চেয়ারপারসন যদি সেদিন সেই কাউন্সিলে যেতেন তিনি হতেন রাজনৈতিক অঙ্গনে সেদিনের আলোচনার মুখ্য চরিত্র। ক্যামেরার ফোকাস শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পড়ত তার ওপর। জাতীয়-আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উঠে আসতেন এক উজ্জ্বল অবয়ব নিয়ে। পয়েন্টে এগিয়ে যেতেন তিনি। কাউন্সিলে যাওয়ার ব্যাপারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের পূর্বেকার বক্তব্যের সঙ্গে দলের পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরস্পরবিরোধী। যেতে বাধা দিল কে বা কারা? আবার দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের পাতা ফাঁদেই পা রাখলেন বেগম খালেদা জিয়া?

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

ই-মেইল : kazi.shiraz@yahoo.com



সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন - ৩০ অক্টোবর ২০১৬
অন্যান্য সংবাদ
ফটো গ্যালারী
  • নামাজের সময়সূচী

    রবিবার , ৩ জুলাই ২০১৬
    ওয়াক্ত শুরু জামাত
    ফজর ০৩.৫০ ০৪.০৫
    জোহর ১২.০৬ ০১.১৫
    আসর ০৪.৪২ ০৫.১৫
    মাগরিব ০৬.৫৪ ০৭.০০
    এশা ০৮.২০ ০৮.৩৫
    সূর্যোদয় : ০৫.১৪ মিঃ
    সূর্যাস্ত : ০৬.৫৪ মিঃ
  • অনলাইন জরিপ

    আজকের প্রশ্নঃ- 
    '' বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,
    দেশের মানুষ একটা অস্থির-শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে বাস করছে। ”
    তার কথার সাথে আপনিও কি একমত ?
  • অন্যান্য পাতাসমুহ

  • ভিজিটর কাউন্টার


    free hit counter
  • ভিজিটর তথ্য

    আপনার আইপি
    54.166.74.94
    আপনার অপারেটিং সিস্টেম
    Unknown
    আপনার ব্রাউজার
    " অপরিচিত "
  • বিজ্ঞাপন


    Propellerads